৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ ইং

রক্তের হোলি খেলা গনতান্ত্রিক দেশে বরদাস্ত করা হবে না- আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার:

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদেরকে ৭১ কে মনে করিয়ে দিয়েছে। তারা ওইদিন নারায়নগঞ্জে সৌরভ নামে এক সাংবাদিককে ধরে ৪ কলেমা পড়িয়ে সে মুসলমান কিনা নিশ্চিত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকান্ডের ঘৃনা প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই। আমি চাই সবার মাঝে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে ইসলামের তান্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধংসযজ্ঞ পরিদর্শনকালে ভাংচুরকৃত প্রেসক্লাব ভবন পরিদর্শন শেষে প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে এবং বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্কিট হাউজে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।

এ সময় পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, আপনারা কাকে কষ্ট দিচ্ছেন? এসিল্যান্ড কার্যালয় পুড়িয়েছেন, কার্যালয়ের রেকর্ড রুম পুড়িয়েছেন এতেতো গ্রামের সাধারণ মানুষ কষ্ট করবে। রেলওয়ে স্টেশন পুড়িয়েছেন, স্টেশনের কন্ট্রোল প্যানেল ভাংচুর করে পুড়িয়েছেন, এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ কষ্ট করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করছেন কেন? আপনাদের ক্ষোভ কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে?

তিনি বলেন, রক্তের হোলি খেলা গনতান্ত্রিক দেশে বরদাস্ত করা হবেনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী একা নন, সমগ্র দেশবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর সাথে আছে। আমরা ভয়কে অতিক্রম করবো। সবাই মিলে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭৪টি মাদরাসা আছে। এসব মাদরাসায় ১লাখ ৩ হাজার ছাত্র আছে। তাদের ভরনপোষন বাবদ বছরে খরচ হয় ৩৬০ কোটি টাকা। এই টাকা বহন করছেন আপনারা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। আপনারা তাদের খেদমত করছেন। খেদমত করতে এখন প্রতিশোধের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে রুহানী আলেম ও পলিটিক্যালি আলেমদের চিনতে হবে।
তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত করার পর তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা ভয় পাবেনা, প্রত্যেকটি ঘটনার জন্য মামলা করেন। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা আছি আপনাদের পাশে। দেশবাসী আছে আপনাদের পাশে।

তিনি বলেন, পুলিশ কেন ঘটনা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন নি সেটা দেখা হচ্ছে। মাইকিং করে পুলিশের আত্মরক্ষার কৌশলকে তিনি অপেশাদার আচরণ বলে মন্তব্য করে বলেন, অপেশাদার পুলিশের দরকার নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের স্পেশাল শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, রেল পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান প্রমুখ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেসক্লাব ও সুর স¤্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনকে অনুদান প্রদান করেন আইজিপি। প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞগুলো পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা বঙ্গবন্ধুর একাধিক ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মেয়রের বাসভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ কার্যালয়, গনপূর্ত অফিস, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবন, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, মাতৃ সদন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, তার শ্বশুরের বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে।