১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ঠাকুর মেজবাহ উদ্দিনের দাবি তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার:

নিজেকে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছেন, সরাইল উপজেলার বড় দেওয়ান পাড়ার বাসিন্দা ঠাকুর মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন।

সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আইয়ূব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সরাইল বড় দেওয়ান পাড়ার ঠাকুর মফিজ উদ্দিন আহমদের ছেলে ঠাকুর মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, তার কাছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদসহ তিনি যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তার স্বপক্ষে অনেক প্রমাণপত্র আছে। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্রসহ প্রমানপত্র উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুর মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালতের রায়ে খালাসপ্রাপ্ত তাহের উদ্দিন ঠাকুর ঠাকুর আমার চাচাতো ভাই নন। রক্তের সম্পর্কের কোন আত্মীয়ও নন। আমরা একই গ্রামের বাসিন্দা। আমাদের গ্রামে আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুর মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। (মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-০১১২০০০৬৮১০)। তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ অভুত্থানে অংশ গ্রহন করেছি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে মাঠে কাজ করেছি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করি। ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে বিদ্রোহ করে চতুর্থ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন গাফ্ফারের নেতৃত্বে ২০০ সেনা সদস্য সরাইল সদরের কাচারি মাঠে আসেন।

তারা উপজেলার আজবপুর যাওয়ার জন্য ৬/৮ জন লোক চাইলে তিনিসহ কুট্টাপাড়ার আঞ্জু, নূরুল ইসলাম, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী খান, তার ছেলে মজিদ খান, বণিক পাড়ার অমরেশ রায়, রসুলপুরের সিদ্দিকুর রহমান তাদের সাথে যাই। তিনদিন পর সরাইল থেকে সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পৌঁছি। রাতে চা বাগানে অবস্থান করে ভারতের আগরতলায় যাই। সরাইল থেকে তিনিসহ ৬ জনের এই দলটি প্রথম মুক্তিযুদ্ধে গমনকারী। আমরা আখাউড়া ও কসবা সেক্টরে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধে অংশ গ্রহন করি।

পরে ভারতের হাপানিয়া তিতাস ক্যাম্পে যাই। সেখান থেকে ১৫/২০ দিন পর ভারতের গৌকুলনগর ট্রেনিং সেন্টারের মেঘনায়ে যোগদান করি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিক্ষা জীবনে ফিরে আসি। ২০১৬ সালে ভারতীয় পদ্মা-মেঘনা তালিকা প্রকাশ হওয়ার এক বছর পর জানতে পারি ওই তালিকায় আমার নাম আছে। তালিকায় মেঘনা ক্রমিক নম্বর-৫৫৯। সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে গঠিত যাচাই-বাছাই-এ অংশ গ্রহন করে নির্বাচিত হই। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই ‘সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা’ হিসাবে সরকারের অনুমোদন আসে। পরিপত্র জারি হলে ২০১৯ সালে ভাতার আবেদন করি। ওই বছরের ১৮ জুলাই থেকে আমি ভাতা পেতে শুরু করি। দুঃখজনক হলেও সত্য গত ২৬ ডিসেম্বর সরাইলের একটি মতবিনিময় সভায় কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা আমাকে ভুয়া ও অমুক্তিযোদ্ধা বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমি তাদের মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্যের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, শুনেছি স্থানীয় মহিলা এমপি বর্তমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। এই ক্ষোভে স্থানীয় কিছু মুক্তিযোদ্ধা আমাকে ছোট করার জন্য এমনটি করেছেন।