১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

হাড় কাঁপানো শীতে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের দোকান

স্টাফ রিপোর্টার,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এখন ফুটপাতের দোকানগুলো। পৌষের কনকনে শীতে কাবু নিম্ন আয়ের ও স্বল্প আয়ের মানুষগুলো তাদের শীত নিবারনের জন্য যাচ্ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। গত কয়েকদিনের শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিন-মজুর ও খেঁটে খাওয়া মানুষগুলো ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
এদিকে শীত পড়ার সাথে সাথেই জমে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতের দোকানগুলো।

শীত পড়ার পর থেকেই শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, মঠের গোড়া, সদর হাসপাতাল রোড, মসজিদ রোড, ও কোর্ট রোড, কাউতলী জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনে ও স্টেশন রোডে শীতের কাপড় নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী রিক্সাভ্যানে করে শীতের কাপড় নিয়ে বসেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই মৌসুমী ব্যবসায়ী। প্রতিদিন জেলা শহর ও আশপাশ এলাকার প্রচুর মানুষ এসে ফুটপাত থেকে তাদের পছন্দসই গরমের কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা ভালো হওয়ায় তারাও খুশি।

ফুটপাতের এসব দোকান ও ভ্যান গাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে বড়দের জ্যাকেট, সোয়েটার, জিপার, ট্রাউজার ও গেঞ্জি এবং ছোটদের জিপার, প্যান্ট, টপস্, গেঞ্জি ও সোয়েটারসহ সব ধরণের গরম কাপড়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আনা এসব গরম কাপড় ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড়দের প্রতিটি জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪শ’ টাকা পর্যন্ত। আর সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বিকেলের পর থেকেই দোকান ও ভ্যানগুলোতে ভিড় করেন ক্রেতারা। প্রতিদিন গড়ে একজন ব্যবসায়ী ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করতে পারছেন বলে জানিয়েছন তারা।
তবে এসব কাপড়ের পাশাপাশি ফুটপাতে বিদেশ থেকে আনা পুরাতন গরমের কাপড় বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। এসব পুরাতন কাপড়ের মধ্যে লেদারের জ্যাকেট, ওলের সোয়েটার, ব্লেজার, মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের গরমের কাপড়, জিন্সের প্যান্ট, জিন্সের জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে। এসব পুরাতন কাপড়ের ক্রেতাও কম নয়।
সাবিহা বেগম নামে এক কর্মজীবি নারী জানান, স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করি। যে টাকা বেতন পাই তাতে করে মার্কেট থেকে গরম কাপড় কিনলে সংসার চালাতে কষ্ট হবে। তাই ফুটপাত থেকেই কিনছি। তিনি বলেন, আমার মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতই ভরসা।

জাহের মিয়া নামে একজন ইজিবাইক চালক জানান, সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৫/৬শ’ টাকা আয় করি। কয়েকদিন ধরে শীতের কারণে রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই ২৫০ টাকা দিয়ে ফুটপাত থেকে একটি জ্যাকেট কিনেছি। এই জ্যাকেট দিয়েই এবারের শীত পার করে দিবো।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতের দুই মাস গরম কাপড় বেচাকেনা হবে ফুটপাতে। দেশের বিভিন্ন গার্মেন্ট এবং দেশের বাইরে থেকে আসা ত্রুটিপূর্ণ কাপড়গুলো তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয় ফুটপাতে। গেল দুইদিন ধরে শীত বাড়ার কারণে বেচাকেনাও বেড়েছে তাদের। বাড়তি কিছু টাকা আয়ের আশায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও বসেছেন ফুটপাতে।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের বেচাকেনা ভালো হলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ তাদেরকে ফুটপাতে বসার কারনে হয়রানি করে। পুলিশ ভ্যান ধরে থানায় নিয়ে যায়। দিনে কয়েকবার পুলিশের তাড়া খেতে হয় তাদের। তারা মানবিক দিক বিবেচনা করে শীতের মৌসুমে তাদেরকে ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি করতে দেয়ার দাবি জানান।

ফুটপাতের ব্যবসায়ী মোঃ রতন মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ, তাই পেটের দায়ে ফুটপাতে ভ্যান গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমার মতো অধিকাংশ ব্যবসায়ী গরীব। ধার-দেনা করে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসা করছি। তিনি বলেন, পৌর সভা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ আমাদেরকে হয়রানি করছে। তাই সারাক্ষণ ভয়ে থাকতে হয়।

ব্যবসায়ী মোঃ কামাল মিয়া জানান, বেচাকেনা এখন ভালোই হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের কারণে ভয়ে থাকতে হয়। একবার তার ভ্যান ধরে থানায় নিয়ে গিয়েছিলো পুলিশ। তিনি জানান, ফুটপাতের এই ব্যবসা দিয়েই চলে আমার সংসার। ব্যবসা করতে না পারলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল কবির জানান, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং যাত্রীদের কষ্ট হয়। তাদের কষ্ট নিরসনের জন্যই আমরা মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে থাকি। তিনি বলেন, পৌর সভার মেয়রের সাথে কথা বলে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা যদি রাস্তার বদলে অন্য জায়গায় ব্যবসা করতে পারেন তাহলে শহরের যানজট লাঘব হবে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত দখল করে দোকান বসায় শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়, মানুষ ফুটপাত দিয়ে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেনা । নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই ফুটপাতে দোকান বসতে বাঁধা দেয়া হয়।