১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দুইপক্ষের বাদানুবাদ মসজিদের ভেতরেই মারা গেছেন মুসল্লী ॥ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

স্টাফ রিপোর্টার,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবদুর রহিম-(৭০) নামে মাওলানা সাদপন্থী এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর বিশৃংখল পরিস্থিতি এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পৌর এলাকার পশ্চিম পাইকপাড়া বোর্ডিং মাঠ সংলগ্ন আব্দুল আলীম ওয়াফকাহ ট্রাস্ট জামে মসজিদের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। আবদুর রহিমের মৃত্যুর ঘটনায় সাদ বিরোধীরা দায়ী বলে দাবি করেছেন সাদপন্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী পশ্চিম পাইকপাড়া বোর্ডিং মাঠ সংলগ্ন আব্দুল আলীম ওয়াফকাহ ট্রাস্ট জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ জিয়াউল হক ফরিদ জানান, বুধবার আছর নামাজের পর পাড়ার এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে মসজিদের মধ্যে দোয়ায় বসছিলেন আবদুর রহিম। এ সময় ২০/২৫ জন মাদরাসার ছাত্র এসে মসজিদের ভেতরে হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আবদুর রহিমের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়। এ সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মসজিদের ভেতরেই ঢলে পড়েন। সাথে সাথে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ এবিএম মুসা চৌধুরি তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

মাদরাসার ছাত্রদের হামলায় আহত মসজিদের মুসল্লী মোঃ নজরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান ও শফিকুর রহমান বলেন, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে মাদরাসার ছাত্ররা তাদেরকে কিল-ঘুষি মারেন ও টেনে হিচড়ে তাদের পাঞ্জাবী ছিড়ে ফেলেন।

এদিকে আবদুর রহিম এর মৃত্যুর খবর পেয়ে সাদপন্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা আবদুর রহিমের মৃত্যুর জন্য সাদ বিরোধী কওমী মাদরাসার ছাত্রদের দায়ী করেন।

এদিকে আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল কবীরের নেতৃত্বে পুলিশ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে শহরে যেন বিশংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ এবিএম মুসা চৌধুরি জানান, হাসপাতালের আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি মারা যান। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুবারকুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি জানে না বলে জানান।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আবদুর রহিমের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে যাতে কেউ বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য শহরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।