১৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

অভিযুক্ত এসআই জামিরুলকে প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরীকে বেদম মারধোর করে তার কানের পর্দা ফাটানো এবং তার পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে তার কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ জামিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ আলমগীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতনের শিকার দপ্তরীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত এস.আই জামিরুলকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য গত শনিবার রাত ১০টার দিকে এসআই জামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানার ছয় পুলিশ সদস্য সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। পরে তারা বিদ্যালয়ের দপ্তরী উবায়দুল্ল¬ার কক্ষের দরজায় টোকা দেন। দরজা খোলার পর এখানে বশির নামে কেউ আছে কি-না জিজ্ঞেস করেন জামিরুল। এ নামে কেউ নেই বলার পর জামিরুল উবায়দুল্ল¬ার পকেটে হাত দেন। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার বলেন, বাচ্চু নামে কেউ আছেন কি-না। এরপর উবায়দুল্লাহকে স্কুলের সকল কক্ষের দরজা খুলতে বলেন।

পরে জামিরুলের সাথে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আবার উবায়দুল্লাহর পকেট চেক করার নামে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলট ঢুকিয়ে দেন। এরপর জামিরুল উবায়দুল্লাহকে বলেন, তুই ইয়াবা ব্যবসা করিস। আর কোথায় ইয়াবা আছে বল। এর পরপরই জামিরুল ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উবায়দুল্লাহকে বেদম মারধোর করেন। তার মাথা ও দুই কানে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি দেয়া হয়। এতে উবায়দুল্লাহর বাম কানের পর্দা ফেটে যায়।

খবর পেয়ে রাতের বেলা উবায়দুল্লাহর বাবা ক্বারী নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসলে তাকেও আটক করে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন জামিরুল। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তালেব এসে দুই হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে উবায়দুল্লাহ ও তার বাবাকে ছাড়িয়ে নেন। যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে জানালে উবায়দুল্লাহকে মাদক মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেন জামিরুল।

গত রোববার সকালে আহত উবায়দুল্লাহকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কার্যালয়ে আহত উবায়দুল্লাহর কাছ থেকে বিষয়টি অবহিত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ আলমগীর হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ রেজাউল কবির। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন আহত উবায়দুল্লাহ। ঘটনা শুনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদ্বয় বিষয়টি লিখিত আকারে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়ার জন্য আহত উবায়দুল্লাহকে পরামর্শ দেন।

তাদের পরামর্শে সোমবার সকালে উবায়দুল্লাহ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আহত উবায়দুল্লাহ সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল গ্রামের ক্বারী নূরুল ইসলামের ছেলে।