২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ. ১২ই আগস্ট, ২০২২ ইং

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হলেন মোকতাদির এমপি

স্টাফ রিপোর্টার:

দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণমানুষের নেতা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ এর আর্টিক্যাল ২০(১)(ই) ধারা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁকে এই মনোনয়ন প্রদান করেন। (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬-০৬-২০২২ খ্রীঃ তারিখের রেজিঃ/ প্রশা-৪/৮৪৩৬৩ নং পত্র) । বুধবার রাতে মোকতাদির চৌধুরী এমপি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ১৯৫৫ সালের ১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসুলম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মোঃ আবদুর রউফ চৌধুরী, মাতার নাম মোছাম্মৎ মরহুমা হালিমা খাতুন চৌধুরী। তিনি ১৯৬৯ সালে মাদরাসা-ই আলীয়া, ঢাকা থেকে ফাজিল, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সনে তিনি তদানিন্তন পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মোকতাদির চৌধুরী বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (মুজিব বাহিনী) গেরিলা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার জোন বি-এর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে তিনি যুদ্ধে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্যে ভারতে চলে যান।

স্বাধীনতা উত্তর সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র রচনার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘ছাত্র সমাজের শিক্ষা কমিশন’ -এর সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর তিনি দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।

১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন এবং ৪ নভেম্বর ঢাকার রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভ‚মিকা পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ২ বছর কারাবরণ করেন এবং ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহামান্য হাইকোটের নির্দেশে মুক্তি লাভ করেন।

১৯৮৩ সালে তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে তৎকালীর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের নিয়ে গঠিত জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি সিভিল সার্ভিসের চাকুরী থেকে পদত্যাগ করেন।

র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন। পরে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন ।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে নির্বাচন হন। বর্তমানে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্বের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com