৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

মুজিব মেম্বারের দাপট: অসহায় মৎসজীবিরা

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের দাপটে বেকায়দা পড়েছেন মৎসজীবিরা। একটি খাল দখলে নেওয়ায় ২০ একরের উপরে জলমহালটিতে কোন প্রকার মাছ শিকার করতে পারছেন তারা। এই বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও ওই ইউপি সদস্য সরকারি খালটি দখল করে বন্ধ করে রেখেছেন। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৬বছর যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ২০.৭২ একর বড়জোর খাল জলমহালটিতে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছে বড়জোর খাল মৎসজীবি সমিতি। কিন্তু এই জলমহালের প্রবেশ মুখে খালটি অবৈধভাবে দখল করে বন্ধ করে দেয় স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান। শুধু তা ই নয়, খালের জায়গা দখল করে একটি পুকুর অবৈধভাবে খনন করেন তিনি। ফলে বৃহৎ এই জলমহালে খাল দিয়ে মাছ প্রবেশ করে না।

এতে বিপুল অংকের লোকসানে পড়েছে মৎসজীবিরা। পরে বাধ্য হয়ে অবৈধ দখলদার থেকে সরকারি গণ্যাজুড়ি খালটি দখল মুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বড়জোর খাল মৎসজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন থেকে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদনের দায়িত্ব সেন্দ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আশুতোষ চন্দ্র ভৌমিককে প্রদান করেন। ঘটনা সত্যতা পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এতে বলা হয়, ‘২৮৪নং সেন্দ মৌজায় হালে ৫৫৮ দাগে ০.২২একর ভূমি শ্রেনী খাল হিসেবে ১নং খাস খতিয়ানে লিপিবদ্ধ। মো. মুজিবুর রহমান, পিতা-আবু জামাল, সাং-মোহাম্মদপুর উক্ত মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৫৫৮দাগের ভূমিতে অবৈধ ভাবে একটি পুকুর খনন করেন’। এই প্রতিবেদন দাখিলের পর ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান ১৩ ফুট প্রসস্থ খালটির ৫ ফুট অবৈধ দখল ছেড়ে দেন। কিন্তু খালের অধিকাংশ এখানো তিনি দখল করে রেখেছেন।
সর্বশেষ দরপত্রেও চলতি বছরের মে মাসে আগামী ৩ বছরের জন্য ২০.৭২একর এই জলমহালটি পুনরায় জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা পায় এই মৎসজীবি সমিতিটি। ইজারা নিয়েও বাধের কারণের খাল দিয়ে মাছ না আসায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন।

এই বিষয়ে বড়জোর খাল মৎসজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার আমাদেরকে এই জলমহাল ইজারার মাধ্যমে দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান জোড় করে দখলে নিয়েছে এই জলমহাল। আমরা নিজের ক্ষমতায় জলমহালটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারছিনা। এই কারণে আমরা লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি’।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি অবৈধভাবে সরকারি জলমহল দখল করেনি। আমার বিরুদ্ধে এলাকার একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’।

এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরেফিন বলেন, ‘আমি জলমহাল এলাকাটি সরেজজমিনে পরিদর্শন করেছি। দুইপক্ষের বক্তব্য আমি শুনেছি। সার্ভেয়ারকে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে’।