২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

কসবায় ৩ দিনেও বন্ধ হচ্ছে গ্যাস উদগিরণ! আতংকে এলাকাবাসী

কসবা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিদ্যানগর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি নলকূপ বসানোর সময় পাইপ দিয়ে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে গ্যাস পানি ও বালি বের হয়ে আসার ঘটনায় গত বুধবার থেকে ওই বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষনা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার সকাল থেকে নলকূপের পাইপ দিয়ে হঠাৎ করে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে গ্যাস, পানি ও বালি বের হয়ে আসতে থাকায় বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। তিনদিন অতিক্রম হচ্ছে এখনো গ্যাস উদগিরণ বন্ধ হচ্ছে না বরং বেইে চলছে। বিদ্যালয়ের আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ লোকমান হোসেনসহ সালদা গ্যাস ক্ষেত্র সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয় ও সতর্কতা হিসেবে বিদ্যালয়ের চারিদিকে লাল নিশান টানিয়ে দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান জানান, গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। নলকূপের পাইপ ৫৪০ মিটার গভীরে প্রবেশ করার পর গত বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ করে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে পাইপ দিয়ে গ্যাস, পানি ও বালি বের হতে থাকে। এতে করে পুরো বিদ্যালয়ের মাঠ মহুর্তেই বালি এবং কাঁদাযুক্ত পানিতে ডুবে যায়। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষনা করেন।

শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছে। নলকূপের পাইপ মাটির প্রায় ৫৪০ ফুট বসানোর পর গত বুধবার সকাল থেকে পাইপ দিয়ে গ্যাস, পানি ও বালি বেরুতে থাকে। এটা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় বিদ্যালয় সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে সালদা গ্যাস ফিল্ড, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে পেট্রোবাংলার এবং সালদা গ্যাসক্ষেত্রের জিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করন। তাদের বরাত দিয়ে সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের অপারেটর রেজাউল করীম জানান, ৭২ ঘন্টা পর্যবেক্ষন করবেন জিওলজিক্যাল বিশেজ্ঞরা। পরে তারা এই গ্যাস পকেট গ্যাস, নাকি স্থায়ী গ্যাসের অস্তিত্ব এ সর্ম্পকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এদিকে উৎসুক জনতার ভীড় ঠেকাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কসবা থানার উপ-পরিদর্শক জিহাদ দেওয়ান জানান, উৎসুক জনতার ভীড় ঠেকাতে তারা হিমসিম খাচ্ছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্যাস উদগিরিত স্থান থেকে কসবা সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার।