১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

প্রাইভেটকারে বৃদ্ধা নিহতের ঘটনায় জুম্মান-কামালকে ফাঁসানো হয়েছে- দাবী বৃদ্ধার পরবিাররে

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার টানপাড়া এলাকায় রেলে কাটা পড়ে নিহত বৃদ্ধা ফুল চাঁন বিবি(৭৫) কে সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার করে। এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে যাওয়ার সময় হাসপাতালের কিছু দালালরা তাকে এ্যাম্বোলেন্সে না নিয়ে প্রাইভেটকারে করে ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং প্রাইভেটকার ভাড়া পর্যন্ত করে দেয়।প্রাইভেটকারে ঢাকা নেয়ার পথে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ওই রোগীর ছেলে জেলার আখাউড়া উপজেলার টানপাড়ার মোঃ ফরিদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মোঃ জুম্মান ও তার সহযোগী মোঃ কামালের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনার তদন্তে সিভিল সার্জন আগামীকাল রোববার তদন্ত কমিটি গঠন করবেন বলে জানা গেছে।

সিভিল সার্জনের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে ফরিদ মিয়া দাবি করেন, তার মা ফুলচান বেগম গত ১৭ নভেম্বর বিকেলে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে তার ডান পা হারান। তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ শুনে ফরিদ মিয়া সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করলে জুম্মান ও কামাল মিয়া বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সে তার মাকে ঢাকায় পাঠাতে বাধ্য করেন। জুম্মানের চাপে পড়ে তিনি বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স নিতে রাজী হন।

পরে তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে তার মাকে এ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে একটি সাধারণ প্রাইভেটকারে তুলে দেয় তারা। প্রাইভেটকারে অক্সিজেন সুবিধা না থাকায় তার মা পথিমধ্যে নরসিংদী এলাকায় মারা যান। পরে তার মায়ের লাশ নরসিংদীতে রেখে প্রাইভেট কার চলে যায়।
পরে তিনি নরসিংদী থেকে আরেকটি এ্যাম্বুলেন্সে করে তার মায়ের লাশ আখাউড়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। ফরিদ মিয়া এ ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রোগীদের রক্ষা করার জন্য এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে জুম্মান ও কামালকে জড়িয়ে বিভিণœ প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি জুম্মান ও কামালের দৃষ্টিগোচর হলে জুম্মান ছুটেযান আখাউড়া ফুলচান বিবির বাড়ীতে। পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করার পর জুম্মানকে দেখে বলে এ জুম্মান নয়। যে ছেলে প্রাইভেটকার ভাড়া করে দিয়েছে সে ডাক্তারের পাশে বসা ছিল। এ ছেলে জুম্মান ও কামাল নয় বলে দাবী করেছেন অভিযোগকারী নিহত বৃদ্ধার ছেলে ফরিদ মিয়া ও তার মামা আজিজুর রহমান । তারা আরোও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু লোক আমাদের বলেছেন, এদের নাম জুম্মান আর কামাল । সেই‘ লোকজনের কথা মতোই‘ অভিযোগে জুম্মান আর কামালের নাম আনা হয়েছে । আমাদেরকে ভূল তথ্য দিয়ে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নিহত বৃদ্ধা ফুল চাঁন বিবির ভাই আজিজুর রহমান ও ছেলে ফরিদ মিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলেন, ভূলবশত জুম্মান ও কামালের নামে অভিযোগ দেয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

জহিরুল ইসলাম জুম্মান ও এম্বোলেন্স চালক মোঃ কামাল মিয়া প্রচার হওয়া সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যারা এ সংবাদ প্রকাশ করেছে তারা একতরফা ভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে।আমাকে কোন সাংবাদিক ফোন করে আমার বক্তব্য নেয়নি। আমি ঘটনাস্থল ছিলাম কিনা? আমার বক্তব্য না নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিতে পরে না।