৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

কলেজের ছাত্রী হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মাষ্টার্স এর ছাত্রী দীপা দেবনাথ মম্পীর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করেছে ওই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।  বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই মানবন্ধন হয়।

এতে মম্পীর হত্যায় তার স্বামী ও শাশুড়ী জড়িত বলে তাদের ফাঁসি দাবী করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের সহপাঠী ইশরাত জাহান বিথী, খাদিজা আক্তার বাবলী, জান্নাত রায়হানা, মোঃ জুবায়েদ, মোঃ মনির, অরপিতা দেবনাথ।

গতকাল বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে মাম্পীর লাশ রেখে পালিয়ে যায় তার স্বামী ও স্বজনরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে কিশোরগঞ্জের অস্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামের চিকিৎসক পরিতোষ দেবনাথের মেয়ে দীপা দেবনাথ মম্পীর সাথে বিয়ে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব পাইকপাড়ার ধোপাবাড়ি এলাকার মৃত অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে অপূর্ব রায়ের।

অপূর্ব হোলসিম সিমেন্ট’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুপাইভাইজার হিসেবে কর্মরত। বিয়েতে নগদ ৩লক্ষ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী অপূর্ব রায় ও তার মা প্রতিমা রায় নিয়মিত মাম্পীকে নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুরে অপূর্ব তার স্ত্রী দীপাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।

এসময় তারা জানায়, দীপা রায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন দীপাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। মৃত্যুর খবর জেনে দীপার মরদেহ জরুরি বিভাগে ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী অপূর্বসহ স্বজনেরা।

নিহতের পিতা পরিতোষ দেবনাথ জানান, অপূর্ব রায় ও তার মা প্রতিমা রায়ের নামে হত্যা মামলা দায়ের করবেন ।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-তদন্ত মো: আতিকুর রহমান জানিয়েছেন এখনো মামলা হয়নি। আজ জেলা সদর হাসপাতালে মাম্পীর লাশের ময়নাতদন্ত হয়।