Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পিঠা বিক্রির ধুম

NewsBrahmanbaria

এই আর্টিকেল টি ৩২।

নিউজ ডেস্ক,

প্রচন্ড শীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাস্তায় (ফুটপাতে) পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি। প্রতিটি দোকানেই থাকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। শহরের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ হরেক রকমের পিঠা রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাওয়ার পাশাপাশি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাসা-বাড়িতেও।

সারা বছরই জেলা শহরের ২/৩টি রাস্তার ফুটপাতে ভাসমান ব্যবসায়ীরা পিঠা বিক্রি করলেও শীত পড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার অলি-গলিতে ভাসমান বিক্রেতারা পিঠা বিক্রি করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাদের পিঠা বিক্রি। শহরের শ্রমজীবী মানুষই তাদের প্রধান ক্রেতা। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্চবিত্তরাও এসে তাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ফুটপাত থেকে হরেক রকমের পিঠা কিনে নিয়ে যান। পিঠার জন্য প্রচুর ক্রেতা থাকায় অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও পিঠা কিনতে হয়৷

সরজমিনে দেখা গেছে, শীত পড়ার সাথে সাথে জেলা শহরের মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড, কুমারশীল মোড়, ট্যাংকেরপাড়, পৌর সুপার মার্কেট, সিটি সেন্টার, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট, কোর্ট রোড, মসজিদ রোড, হাসপাতাল রোড, সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, রেলওয়ে ষ্টেশন রোড, কান্দিপাড়া মাদরাসা রোড, কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ ময়দান, ডা. ফরিদুল হুদা রোড, কাউতলী জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনেসহ জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোডের ফুটপাত ও শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তার মোড়ে পিঠা বিক্রি হচ্ছে।

সকাল ১০টার পর থেকেই দোকানিরা ফুটপাতে মাটির চুলা, এলপি গ্যাস ও কোরোসিনের চুলা নিয়ে বসে যান। এসব দোকানে চিতই পিঠা, মেরা পিঠা (চোয়া পিঠা), ভাঁপা পিঠা, পোয়া পিঠা (তেলের পিঠা), পাটিসাপটা পিঠা বেশী বিক্রি হয়। তবে কনকনে এ শীতে চিতই পিঠা ও ভাপা পিঠারই কদর বেশী। ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী খেজুরের গুড়, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাঁপা পিঠা তৈরী করে দেয়া হয়। এছাড়া চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদেরকে সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেয়া হচ্ছে। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুণ খুশী। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ১৫টাকা ও প্রতিটি ছোট ভাঁপা পিঠা ১০ টাকা ও চিতল পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি বড় সাইজের চিতই পিঠা ১০টাকা এবং ছোট সাইজের চিতই পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

জেলা শহরের আধুনিক পৌর সুপার মার্কেটের সামনের পিঠা বিক্রেতা রফিক মিয়া জানান, প্রতিদিন তিনি দুই থেকে তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। এতে তার লাভ হয় ৪০০/৫০০ টাকা। তিনি বলেন, আগে তিনি প্রতিদিন ৫/৬ কেজির চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি করলেও বর্তমানে ৭/৮ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন।

শহরের কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রিতা আসমা বেগম বলেন, আল্লাহর রহমতে বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে। তিনি জানান, চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিদিন ৬/৭ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন তিনি।

পিঠা নিতে আসা সুমন জানান, তাদের বাড়ি জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে। তারা দু’জনই কলেজের হোষ্টেলে থাকেন। তারা বলেন, শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা তাদেরকে হরেক রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। হোষ্টেলে থাকায় তারা এখন মা-চাচীর হাতে তৈরী পিঠা খাওয়া থেকে বঞ্চিত। তা সুযোগ পেলেই তারা শহরের ফুটপাত থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যান হোষ্টেলে।

পৌর এলাকার মেড্ডা বাসিন্দা শিপন মিয়া বলেন, তিনি বে-সরকারি চাকুরী করেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ইচ্ছে করলেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেন না। তাই তিনি ফুটপাত থেকেই হরেক রকমের পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যান।

Advertisement

Sorry, no post hare.

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com