Advertisement

আখাউড়ায় দেনাদারের বাড়ি থেকে পাওনাদারের লাশ উদ্ধার, এক আসামীর আদালতে জবানবন্দী

NewsBrahmanbaria

এই আর্টিকেল টি ৫০।

নিউজ ডেস্ক,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পাওনা টাকার জেরে পাওনাদার মোঃ মোরসালিন (২৬) নামে এক যুবককে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের দেনাদার আব্দুল্লাহর তালাবদ্ধ বসতঘর থেকে মোরসালিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সোহরাব মিয়া নামের এক আসামী। বিকেল পাঁচটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সামিউল আলম তার সোহরাব মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভূক্ত করেন।

নিহত মোরসালিনের পরিবারের অভিযোগ, নিহত মোরসালিন পলাতক থাকা আবদুল্লাহর কাছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। আবদুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে মোরসালিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করছে। হত্যার পর লাশ ঘরে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে আবদুল্লাহ পরিবার নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত মোরসালিন উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মিনারকুট গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। সোমবার দুপুরে আটকের পর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন উপজেলার শিবনগর গ্রামের সোহরাব মিয়া (২০)। প্রধান অভিযুক্ত আবদুল্লাহ উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে পরিবারসহ আবদুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে শিবনগর গ্রামের আবদুল্লাহর বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। বিকেল পর্যন্ত তালাবদ্ধ দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আখাউড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে রোববার বিকেলে পুলিশ আবদুল্লাহর বসতঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় মোরসালিনের লাশ উদ্ধার করে। রাতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহেতর লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

সোমবার সকালে নিহতের বড় ভাই হাকিম ভূইয়া বাদী হয়ে আবদুল্লাহ, হৃদয়, সোহেল ও রিফাতসহ আটজনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে সোমাবর দুপুর দুইটার দিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলার শিবনগর গ্রাম থেকে সোহরাবকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় পুলিশ কাছে স্বীকার করেছে সোহবার। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সামিউল আলম তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নূরে আলম জানান, সোহরাবসহ মোট ছয়জন মিলে মোরসালিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে আদালতে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহরাব জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতে ঘটনার সাথে জড়িতরা মোরসালিনকে ডেকে আবদুল্লাহর বসতবাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সোহরাব ও আবদুল্লাহসহ উপস্থিত আরও চার আসামীর সাথে মোরসালিনের পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তারা সেখানে মোরসালিনকে মারধরও করেন। এক পর্যায়ে দুই আসামী মোরসালিনের দুই পায়ে শিক দিয়ে বাঁধেন। অপর আসামিদের কেউ দুই হাত এবং বাকিরা গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মোরসালিনকে হত্যা করে। পরে তার লাশ বস্তায় ভরে বেঁধে বসতঘর তালাবদ্ধ করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তবে এলাকার লোকজনের দাবি, নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধেই এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

নিহতের ভাই রায়হান ভূইয়া বলেন, উপজেলার শিবনগর গ্রামের আবদুল্লাহ ও হৃদয় মিয়ার কাছে আমার ভাই ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। শনিবার দুপুরে ভাই আমাকে কাগজে পাওনা টাকার হিসাবটি লিখে দিতে বলেছিল। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে জানাতেও বলেছিল। আমার ভাই পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করতেন। কিন্তু পাওনা টাকার জেরে আবদুল্লাহ আমার ভাইকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

নিহতের বড় ভাই হাকিম ভূইয়া বলেন, শনিবার রাত নয়টার দিকে আমার দোকানের সামনে থেকে শিবনগর গ্রামের সোহেল আমার ছোট ভাই মোরসালিনকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি মোরসালিন। রোববার বিকেলের পর লোকমুখে শুনতে পারি, শিবনগরের আবদুল্লাহর ঘরে আমার ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে আবদুল্লাহর বসতঘরের তালা ভেঙ্গে বস্তায় বাঁধা অবস্থায় মোরসালিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় কালো দাগ রয়েছে। তিনি বলেন, আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ১১টি মাদক এবং পুলিশ আহত ও মারধরের ঘটনায় আরও ৫টিসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

Advertisement

Sorry, no post hare.

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com