১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ. ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পুকুরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছনকরন কার্যক্রম শুরু

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দখল, দূষণ ও ময়লা আবর্জনার কারনে মজাপুকুরে পরিনত হওয়া পুকুরগুলোকে দখলমুক্ত, দূষনমুক্ত ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে সেগুলোকে জনগনের ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে জেলা প্রশাসন।

এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার পুকুরটিকে দখল ও দূষনমুক্ত করে এর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে পুকুরটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

তাদের কাছে স্থানীয় জনগনসহ সহযোগীতা করছেন নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক সংগঠন নোঙরের সদস্যরা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়ামিন হোসেনের উপস্থিতিতে পুকুরটির ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাউতলী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার পুকুরটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ন পুকুর। কিন্তু পুকুরটির অংশ বিশেষ ভরাট, ও ময়লা আবর্জনা ফেলে পুকুরটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ও নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসী পুকুরটিকে দখল ও দূষনমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ গ্রহন করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

কাউতলী গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শাহআলম বলেন, এই পুকুরটি দখল ও দূষনে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। আজ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুকুরটির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শুরু করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি পুকুরের চারপাশে মানুষ যাতে হাটতে পারে সেই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য এবং পুকুরের মধ্যে কেউ যাতে ময়লা আবর্জনা ফেলতে না পারে সেজন্য উঁচু দেয়াল নির্মান করে দেয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক সংগঠন নোঙরের জেলা সভাপতি মোঃ শামীম আহমেদ বলেন, নোঙর নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণেও চেষ্টা করছে। এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রচুর পুকুর থাকলেও কালের বিবর্তনে পুকুর ভরাট, দখল ও ময়লা আবর্জনার কারণে শহরের পরিবেশ আজ হুমকির মুখে।

আজকের এই আয়োজনে সহযোগিতা করায় নোঙর ধন্যবাদ জানাচ্ছে জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সহ স্থানীয় কাউতলী এলাকাবাসীকে। নোঙর আশা করছে এভাবে সমন্বয় করে কাজ করলে দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় উদ্ধার ও রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা সফল হবেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়ামিন হোসেন বলেন, এই শহরকে বসবাসযোগ্য করার জন্য শহরের পুকুরগুলোতে উদ্ধার করার কোনো বিকল্প নেই। পুকুরগুলোকে দখল ও দূষনমুক্ত করে জনগনের ব্যবহার উপযোগী করে দেয়ার জন্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। আশাকরি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই শহরকে বাসযোগ্য করে তুলব।

উল্লেখ্য গত প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার প্রায় অর্ধশত পুকুর ভরাট করা হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com