২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ. ৭ই জুলাই, ২০২২ ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন মহলে টাকা দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেনের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।টাকা চাওয়ার পর এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিকাশ করে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েও দিয়েছেন। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রোববার দুপুরে ইউএনও ইয়ামিন হোসেন “উপজেলা প্রশাসন সদর” নামের ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন।

এতে বলা হয়, “উপজেলা নির্বাহী অফিসার” ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এর মোবাইল নম্বর (০১৭৮২৮৩৬৩৬) ক্লোন হয়েছে। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ক্লোন করা নম্বর থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কাউকে কোনো অর্থ না দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার বেলা সোয়া ১১টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে সদর উপজেলার রামরাইল, সাদেকপুর, সুহিলপুর ও মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে ইউএনও’র ক্লোন করা নম্বর থেকে ফোন করে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য টাকা দিতে বলা হয়। এরই মধ্যে রামরাইলের ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম বিকাশে ৪০ হাজার টাকা পাঠান।

পরে তিনিসহ বাকি জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি ইউএনওকে জানান। এ ব্যাপারে সদর উপজেলার রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম বলেন, ইউএনও স্যারের নম্বর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় আমাকে ফোন করে অনুষ্ঠানের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে আমি বেলা ১১টা ১৮মিনিটে বিকাশ করে ৪০হাজার টাকা পাঠাই। পরে আবার ফোন করে ১ লাখ টাকা চায়। এতে আমার সন্দেহ হয়। কেন টাকা দিলেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উপজেলায় ইউএনও স্যার অনেক সময় অনেক অনুষ্ঠান করে থাকেন। তখন আমরা অংশগ্রহন করি। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেন বলেন, “রোববার দুপুরে ক্লোন করা নম্বর থেকে রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিমের কাছে আমার নাম করে ৪০ হাজার টাকা চায়।

ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশের মাধ্যমে ৪০হাজার টাকা পাঠিয়েও দেন। তিনি বলেন, এছাড়াও সদর উপজেলার মজলিশপুর, সাদেকপুর ও সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও ফোন করে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। ’তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি বিব্রত। আমার নম্বর ক্লোন করে কলগুলো করা হয়েছে বিষয়টি জানার পর সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। এর আগেও আমার নম্বরটি ক্লোন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com