২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ. ৬ই জুলাই, ২০২২ ইং

দেশে ফিরলেন ভারতে আটকা পড়া পাঁচ ভারসাম্যহীন বাংলাদেশি

সাত বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে হঠাৎ হারিয়ে যান সন্তেুাষ দেব। এরপর তার আত্মীয় স্বজনরা বহু জায়গায় খোঁজ করলেও সন্ধান পাননি। দীর্ঘ দিন পর সন্তেুাষ দেব নিজ দেশে ফিরে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তার আত্মীয় স্বজনরাও আনন্দে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এমন আবেগঘন দৃশ্য দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্ট এ দৃশ্য দেখা যায়। তবে এদিন শুধু সন্তুষ দেব নয়, ভারতে আটকে পড়া আরও চার বাংলাদেশিকে ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশন তাদের পরিবারের সদস্যেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভারত থেকে ফেরত আসা পাঁচ বাংলাদেশি হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মনিন্দ্র লাল দেবের ছেলে সন্তেুাষ দেব, নারায়নগঞ্জের খালেক সর্দারের ছেলে বিজয় চুমু, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের মৃত কামাল বেপারীর মেয়ে ময়না বেগম, পটুয়াখারী রাঙ্গাবালী এলাকার আফাজ উদ্দিন মৃধার মেয়ে রোজিনা বেগম ও কুমিল্লা চান্দিনার খালেক মিয়ার মেয়ে কুলসুম বেগম। এরা প্রত্যেকেই ৫ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে আটকা ছিলেন। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় ওই পাঁচজনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে তাদেরকে ভারত থেকে দেওয়ার সময় ভারতের ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারি কমিশনার কার্যালয়ের হাই কমিশনার আরিফ মোহাম্মদ প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান এস এম আসাদুজ্জামান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আবু বক্করসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সবার পরিবারের লোকজন। এসময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভারত থেকে ফেরত আসা সন্তোষ দেবের ছেলে অন্তু দেব বলেন, তার বাবা সন্তোষ দেব আজ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তাদের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। কিন্তু যখন সময় গড়িয়ে যাচ্ছে বাবা আর বাড়ি ফেরার কোন নাম নেই। পরে আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর করা হয়। এতে কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন তার বাবা ভারতে আছে। এতদিন পর বাবাকে ফিরে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে।

ভারত ফেরত কুমিল্লা চান্দিনার কুলসুম বেগমের ভাই আবুল বাশার বলেন, তার বোন কুলসুম বেগম ২০১৪ সালে হঠাৎ করে স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দুর্গাপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন কুলসুম বেগম ভারতের আগরতলায় আছে। কিন্তু কীভাবে গেল তারা বুঝতে পারেননি। পটুয়াখারী রাঙ্গাবালী এলাকার আফাজ উদ্দিন মৃধার মেয়ে রোজিনা বেগমের ভাই সাহাব উদ্দিন বলেন, আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে তার বোন নিখোঁজ হন। খোঁজ খবর করে কোন সন্ধান না পাওয়ায় আমরা ধরেই নিয়েছি হয়তো আর বেঁচে নেই।

গত এক বছর আগে জানতে পারি তার বোন ভারতে আছে। ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার আরিফ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ বাংলাদেশিই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মর্ডান সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তারা কিভাবে ভারতে এসেছেন সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি।

এদের অনেকেই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদেরকে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি চিৎিসাধীন আছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com