২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ. ৭ই জুলাই, ২০২২ ইং

চুরিতো চুরি আবার সিনা জুরি, অবৈধ কর্ম ফাঁস করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

চুরিতো চুরি আবার সিনা জুরি, অবৈধ কর্ম ফাঁস করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

পুলিশের সোর্স ও নির্মাণ শ্রমিক মো. রেজাউল এর অপকর্ম নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করার জেরে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের সোর্স ও নির্মাণ শ্রমিক মো. রেজাউল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(৩)(ক), ২৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করার পর শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ওইদিনই মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘দৈনিক একুশে আলো সম্পাদক সেলিম পারভেজ, ‘দৈনিক ফ্রনটিয়ার’ সম্পাদক আব্দুল মালেক, ‘দৈনিক একুশে আলো রিপোর্টার হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘হোয়াইট নিউজ’র বার্তা প্রধান ইফতেয়ার রিফাত ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সময়কাল’ প্রকাশক শরীফ মাহমুদকে বিবাদী করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত মামলাটি খারিজের এই আদেশটি বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে পৌছেছে।

এদিকে পুলিশের কথিত সোর্স ও নির্মাণ শ্রমিক মো. রেজাউলের বিরুদ্ধে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে দেখছে। তবে বুধবার পযন্ত আদালতে প্রতিবেদন পাঠায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলতি বছরের ১৮ জুলাই ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন শীলতাহানির শিকার এক তরুনী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় পুলিশের সোর্স মো. রেজাউলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘরের নোয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার স্কুল পড়ুয়া কন্যা কিশোরী সানজিদা আক্তার সায়মা। মামলায় বাদীনি অভিযোগ করেন বলেন পুলিশের সোর্স রেজাউল বাদীনির পিতাকে মৎস্যজীবী জেলে হিসেবে সরকারি কার্ড এবং বাদীনির মাকে সরকারিভাবে সেলাই মেশিন পাইয়ে দেয়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে রেজাউলের খবরের ভিত্তিতে ঘটনার তারিখ ও সময়ে মৎস্যজীবী কার্ড ও সেলাই মেশিন নেয়ার জন্য বাদীনি রেজাউলের বাসায় আসলে বাদীনিকে একা পেয়ে রেজাউল তাকে যৌন হয়রানি করেন ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. রেজাউলের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে মামলার বাদী কিশোরী সানজিদা আক্তার সায়মা জানান পুলিশের সোর্স ও নির্মাণ শ্রমিক মো. রেজাউলের বিচার দাবি করেন। এসময় মামলা তুলে নেওয়া জন্য পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে বলে সে অভিযোগ করেন।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বুধবার দুপুরে জানান আমি মামলার বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। অপরাধী যে হউক না কেন, তদন্তে যা আসবে তা আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
মো. শফিকুল ইসলাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com