৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৭ই মে, ২০২১ ইং

হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় ৫১ মামলায় আসামী ৩৫ হাজার, গ্রেপ্তার-১৬৮

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তান্ডবকালে শহরজুড়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সদর মডেল থানায় আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে এই দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই দুটি মামলা নিয়ে তান্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়।

৫১টি মামলার মধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৫টি, আশুগঞ্জ থানায় ৩টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি।

৫১ টি মামলায় এজাহারনামীয় ২৮৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এই পর্যন্ত সোমবার রাত পর্যন্ত মামলার ১৬৮ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে সোমবার রাতই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০জকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তি বলা হয়, গত সোমবার রাতে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় জড়িত হেফাজতের আরো ৬০ জন কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে এসব ঘটনায় মোট ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তান্ডবের ঘটনায় সোমবার রাতে সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত ২টি মামলাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুর রহিম বলেন, সোমবার রাতে সদর মডেল থানায় আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনিয়ে সদর মডেল থানায় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিআইওয়ান) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুলিশ আসামীদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে। এছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার রাতে আরো ৬০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে তান্ডবের মোট ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল ও ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মী রয়েছে। তিনি বলেন, তান্ডবের ঘটনায় জড়িত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায়।
হামলাকারীরা সরকারি ও বেসরকারি প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মৃত্যুপুরিতে পরিনত করে।