২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৬ই মে, ২০২১ ইং

তান্ডবের ঘটনায় আরো ৭ মামলা দায়ের ॥ গ্রেপ্তার-৩২

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে দিনভর এবং গত শুক্রবার হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আরো ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনিয়ে সহিংসতার ঘটনায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়।

নতুন ৭টি মামলার সবকটিই সদর মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে। নতুন মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পৌরসভা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলা, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগের মামলা, গণগ্রন্থাগার ভাংচুর ও প্রেসক্লাব ভাংচুরের মামলা। এনিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ভাংচুর ও অগ্নিযোগের ঘটনায় ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও গত বুধবার পর্যন্ত সরাইল থানায় একটি ও আশুগঞ্জ থানায় দুইটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দায়েরকৃত ১৯টি মামলায় ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২২ হাজার লোককে আসামী করা হয়েছে। এদিকে সহিংসার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩২জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে হামলার ঘটনার সময় বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এসব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহিম বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামলা, ভাংচুর ঘটনায় সদর থানায় ১৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১০৭জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২২ হাজার মানুষকে আসামী করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসস্তুপে পরিনত হওয়া স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ প্রেসক্লাব পরিদর্শনে এসে ও পরে বিকেলে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে আপনাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, রক্তের হোলি খেলা গনতান্ত্রিক দেশে বরদাস্ত করা হবেনা। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত করার পর তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা আছি আপনাদের পাশে। দেশবাসী আছে আপনাদের পাশে।

উল্লেখ্য স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা বঙ্গবন্ধুর একাধিক ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর মেয়রের বাসভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ কার্যালয়, গনপূর্ত অফিস, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবন, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, মাতৃ সদন, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, তার শ্বশুরের বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে।