৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মজিবুর রহমান (৫০) নামের এক জনপ্রতিনিধি বিরুদ্ধে সরকারি যায়গা দখল করে বিল্ডিং উঠানোর বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামের ইউপি সদস্য। এ নিয়ে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, মুজিবুর রহমান সরকারি খাল দখল করে বিল্ডিং তুলেছে। যার কারনে আজকে খাল দিয়ে কোন পানি যেতে পারে না। সে একজন এলাকার মেম্বার হয়েও এ কাজ করেন কিভাবে? ২০ বছর যাবত সরকারি খালটি দখল করে রেখেছে মুজিবুর রহমান।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, এর আগে মোহাম্মদপুর গ্রামে সরকারি জায়গা দখলের অভিযাগে জাহাঙ্গীর আলম বাদল ও ৪, ৫, ৬ ওয়াডের মহিলা মেম্বার শামসুন্নাহার নাসরিনের আড়াই ফুট জায়গা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ওই সময় সদর উপজেলার ইউএনও ও উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীর দাবী শামসুন্নাহার নাসরিনের জায়গা যদি সরকারি জায়গাতে পড়ে তাহলে এ গ্রামের মেম্বার মুজিবুর রহমানের বিল্ডিংটিও সরকারি জায়গায় পড়েছে। সে এলাকার প্রধান খালটি নিজের দখলে রেখে বন্ধ করে দিয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবুর রহমান (৮২ ফিট দৈর্ঘ ও ৮ ফিট প্রস্থ) সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। যার মধ্যে তার একটি তিনতলা বিল্ডিংয়ের বেশ অংশ পড়েছে। কিন্তু মুজিবুর রহমান এ যায়গাটি ২০ বছর দখল করে রাখলেও কেউ তার প্রতিবাদ করতে পারেন না। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়।

সরকারি জায়গা মাপার ব্যাপারে সেন্দার নায়েব আশুতোষ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, মোহাম্মদপুর ৪১৮ মোজার জায়গাটি মাপা হয়েছে। মাপার দিক বিবেচনা করলে অনেকের বাড়ি সরকারি জায়গায় পড়েছে। যে জায়গা গুলো সরকারি জায়গাতে পড়েছে ওই গুলো সনাক্ত করেছি এবং লাল দাগ দিয়েছি। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে বিরোধী লোকেরা ষড়যন্ত্র করতেছে। সরকারি জায়গা আমি বিল্ডিং নির্মাণ করিনি আমার জায়গায় করিছি। আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অভিযোগটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ খান বলেন, মোহাম্মদপুর মোজায় রাস্তাটি নিয়ে গত ১ বছর যাবত ঝামেলা চলছে। কেউ সরকারি জায়গা দখল করবে সে সুযোগ নেই। সম্মানিত ইউএনও স্যার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিবেন। কেউ যদি সরকারি খাল দখল করে তাহলে অবশ্যই তা উদ্ধার করা হবে । মুজিবুর রহমান যদি সরকারি কোন জায়গা দখল করেছে বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তাকেও ছাড় দিবো না।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, মোহাম্মদপুর মোজার দখলকৃত আড়াই ফুট সরকারি জায়গা উদ্ধার করেছি। এ জায়গার বিষয়ে আবার নায়েব ও সার্ভিয়ারকে পাঠিয়েছি। তারা ওই মোজার পুরো জায়গাটি মাপা নিয়েছেন। এখন যাচাই-বাছাই করা হবে। যদি কেউ সরকারি জায়গা দখল করেন। তাহলে জনগণের স্বার্থে অবশ্যই তাকে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। যদি কোন জনপ্রতিনিধি সরকারি জায়গা দখল করে তাকে তার জায়গাও উচ্ছেদ করা হবে। সরকারি জায়গা দখলের কারো কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।