১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং

রোগীর মৃত্যু হাসপাতাল ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার:

রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ভাংচুর চালিয়েছে রোগীর স্বজনরা। বুধবার সন্ধ্যায় জরুরী বিভাগ এই ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলের বাবুল মিয়ার ছেলে আলভী এলাহী বুধবার আখাউড়া উপজেলার টানমান্দাইলে তার নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দুতলার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক সার্জারী বিভাগের ভর্তি প্রদান করেন। সেখানে কিছুক্ষণ পর আলভী মারা যান। আলভী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা চিকিৎসার গাফেলতির অভিযোগ এনে জরুরী বিভাগে হামলা করে।

এসময় ভাংচুর করার হয় জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষ। কাঁচে দিয়ে ঘেরা বেষ্টনী ভেঙে ফেলে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। প্রাণে রক্ষা পায় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী। পুলিশ এসে জরুরী বিভাগে গেইট বন্ধ করে বিক্ষুব্ধদের আটকে রাখে।

জরুরী বিভাগের চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রোগীটি আসার পরই তার স্বজনদের জানানো হয়, তার অবস্থা আশংকাজনক। রোগীকে আপনারা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু জানানো হয়, রোগীর লিগ্যাল কোন অভিভাবক এখানে নেই। পর চিকিৎসা দিতে সার্জারী বিভাগে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার মৃত হয়। মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমি রক্ষা পেলেও কাঁচের বেষ্টনী ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে।

তবে মৃত আলভীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ‘জরুরী বিভাগে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হলে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি দীর্ঘ সময় ধরে। ফেলে রাখা হয়েছে আহত আলভীকে। চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে’।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আমি নিজেও এসেছি। আমরা ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।

ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত