৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ ইং

বিএনপির আমলে দেশে বন্দুকতন্ত্র ছিলো, তারা গনতন্ত্রের ভাষা বুঝেনা- আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

স্টাফ রিপোর্টার:

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি বলেছেন, বিএনপি যারা করেন তারা বলেন দেশে গণতন্ত্র নাই। আপনাদের সময়েতো দেশে ছিলো বন্দুকতন্ত্র। আপনারা গণতন্ত্রের মানেই বুঝেন না। আপনাদের সময় মানুষ খুন হতো। খুনীরা হেঁটে বেড়াতো। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী করি বলেই আপনারা এখনো কথা বলতে পারেন।

তিনি সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

সোমবার বিকেলে কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আফজাল হোসেন রিমনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বুঝতে পারেন পাকিস্তানের স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যত পরিবর্তন করবে না। তারা শাসক হবে, বন্ধু হবে না। তখন বঙ্গবন্ধু দুইটা ধারা চালু করেন। একটা ছাত্র-যুবক চাহিদা তৈরি করা, আরেকটা ভাগ্যপরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল।

তিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন সেটাই ভাগ্য পরিবর্তনের পথ। রাজমিস্ত্রী যেমন বাড়ি বানাতে একটা একটা ইট গুনেন, সেভাবেই ছাত্রলীগকে গড়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। ছাত্রলীগকে যোদ্ধা বানিয়েছেন। লেখাপড়া করতে বলেছেন, তেমনি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেও শিখিয়েছেন।

বাংলাদেশের জনগণের সাথে বঙ্গবন্ধু এতটাই সম্পৃক্ত ছিলেন, কেউ তাঁকে দাবায়ে রাখতে পারে নাই। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, বাঙ্গালীকে কেউ দমায়ে রাখতে পারে না।

তিনি বলেন, লজ্জার সাথে বলতে হয়, ১৫ আগস্ট যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করা হতো, তাহলে বাংলাদেশের ছবি অন্যরকম হতো। আমরা ভাগ্যবান সেই কালোরাত্রে দুই বোন (শেখ হাসিনা শেখ রেহেনা) দেশে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা ও মানবতা বিরোধীদের বিচার করেছেন, সাজা কার্যকর করেছেন। খুনী জিয়া ও এরশাদের পতন ঘটিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন জনগণের টাকায়। ভিক্ষা আনেন নি। ঋন নেননি। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোড মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন। সেই কারণে সোনার বাংলা হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। ২০৪১ সালের উন্নত দেশ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা ছাত্রলীগ করেন পড়াশুনা করবেন। আপনাদেরকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তৈরি হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকতে হবে। আদর্শ কি ছিলো শিখবেন। আগামীর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। জননেত্রীর শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যাবে আপনাদেরকে সেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষিত হয়ে সমৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে শেখ হাসিনার লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওছার ভূইয়া জীবন, কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম.এ. আজিজ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাজী মানিক প্রমুখ।