৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৩শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

আগামী বছরের মার্চেই শেষ হবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের কাজ- রেলপথমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, আগামী বছরের মার্চ মাসেই শেষ হবে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লিংকের (বাংলাদেশ অংশ) কাজ। তিনি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লিংক প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের অর্থায়নে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। এটার জন্য বাংলাদেশের কোনো টাকা লাগছে না। এর সাথে স্টেশন ভবন এবং কাস্টমস্ ভবনসহ অন্যান্য যেসব স্থাপনা প্রয়োজন সেসব স্থাপনা করছে। আগামী মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ভারতীয় কোম্পানীর সামর্থ্য অনেক বেশি। আমাদের দেশের কোম্পানীগুলোর সামর্থ্য কম।

তিনি বলেন, এই রেলপথটি আমাদের দুই দেশের জন্যই গুরুত্ব¡পূর্ণ। এই রেলপথটি নির্মিত হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক পরিবর্তন হবে। অর্থনীতির পথ সমৃদ্ধ হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদের রেলওয়ে ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। নতুন করে কোনো রেললাইন হয়নি। রেলওয়ে ইঞ্জিন, রেললাইনের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ১৯৭৩-৭৪ সালে রেলে লোকবল ছিল প্রায় ৭০ হাজার বর্তমানে তা ২৫ হাজারে নেমে এসেছে। রেলওয়ে লোকবল সংকটের কারনে ১০৪টি রেলওয়ে ষ্টেশন এখন বন্ধ রয়েছে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা রেল মন্ত্রনালয় তৈরী করে রেল মন্ত্রনালয়কে ঢেলে সাজিয়েছেন। বর্তমানে রেলওয়ের ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লিংক (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্পের পরিচালক মোঃ সুবক্ত গীন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ভাস্কর বকশি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ-আলম প্রমুখ। পরে মন্ত্রী প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, ২৪০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০১ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লিংক (বাংলাদেশ অংশ)। সম্পূর্ণ ভারত সরকারের অনুদানের টাকায় প্রকল্পের কাজ করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। সাড়ে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের সাড়ে ছয় কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশ অংশে। বাকি চার কিলোমিটার পড়েছে ভারতে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বর্ষা মৌসুম ও করোনাভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেজন্য প্রথম দফায় চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় দ্বিতীয় দফায় আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।