১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আশুগঞ্জের দক্ষ সংগঠক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

আশুগঞ্জ প্রতিনিধি:

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন আশুগঞ্জ ফিরোজ মিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও দক্ষ সংগঠক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সোমবার দু দফায় জানাজা শেষে আড়াইসিধায় দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন মানুষ গড়ার কারিগর ও সংগঠকের। রবিবার দুপুরে মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না…….রাজিউন। মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও ১ ছেলে-২মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফিরোজ মিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব ফিরোজ মিয়ার বড় ছেলে।

রবিবার রাতেই লাশ আসে আশুগঞ্জ শহরের হাসপাতাল রোডের বাসায়। সোমবার সকাল ১১ টায় নেয়া হয় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল নিজ হাতে গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফিরোজ মিয়া কলেজে। ক্যাম্পাসে লাশ বাহী ফিজিং গাড়ি প্রবেশ করতেই কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও শুভানুদ্ধায়ীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। র্দীঘদিনের এই কর্মস্থলে যিনি প্রতিদিন আসতেন পায়ে হেটে। আজ নিথর দেহ প্রবেশ করেছে ফিজ্রিং গাড়িতে। পরে ক্যাম্পাস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাযা। বৃষ্টিতে ভিজেই অংশ নেন প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও শুভানুদ্ধায়ীরা। জানাযা পড়ান সোনারামপুর মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মোশারাফ হোসাইন। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চান কামাল হোসেনের ছোট ভাই কামরুল হাসান। জানাযা শেষে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নেয়া শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়া হয়।

প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শেষ বিদায় নিয়ে লাশবাহী গাড়ি ছুটে গ্রামের বাড়ি আড়াইসিধার উদ্দ্যেশে। পরে গ্রামের বাড়িতে লাশবাহী গাড়ি প্রবেশ করতেই শেষ বারের মতো দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন গ্রামের বাড়ির লোকজন। বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে লাশ বাহী গাড়ি ছুটে দ্বিতীয় জানাযারস্থল আড়াইসিধা গ্রামের মান্নানিয়া দরবার শরিফের মাঠে। দ্বিতীয় জানাযা পড়ান মরহুম কামাল হোসেনের ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান শরীফ। জানাজা শেষে লাশ গাড়ি ছুটে শেষ ঠিকানা কবরস্থানের দিকে। কিছুক্ষনের মধ্যেই গাড়ি পৌছে যায় বন্দেআলী বেপারী বাড়ি কবরস্থান চত্বরে। গাড়ি থেকে লাশ নামিয়ে শেষ বিদায় জানানোর জন্য তিন ভাই ও পরিবারের সদস্যরা খাটিয়ে কাদে নিয়ে ছুটেন কবরস্থানের দিকে। পরিবারের সদস্য ও শুভানুদ্ধায়ীদের অশ্রসিক্ত নয়নে বন্দেআলী বেপারী বাড়ি কবরস্থান শেষ ঠিকানায় দাফন সম্পন্ন হয় কামাল হোসেনের।

দু দফা জানাজায় আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নাজিমুল হায়দার, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন মঈন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবু নাছের আহমেদ, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন, আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু রেজভি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহিন শিকদার, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায় সাইফুর রহমান মনি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মতিউর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান হৃদয়, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রিফাত শিকদার, মরহুমের পরিবার সদস্যবৃন্দসহ শুভাকাংখীরা অংশ নেন।

গত ১৩ জুলাই সোমবার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত শনিবার স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় করোনার পরীক্ষা করা হলে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে রবিবার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রবিবার দুপুরে অকাল মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে উনার শুভাকাংখীরা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকবার্তা পোষ্ট করছেন।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ কামাল হোসেন আশির দশক থেকে নব্বইর দশক পর্যন্ত শিশু সংগঠন খেলাঘর ও কচি কাচার মেলা দুটি সংগঠনের অণ্যতম সংগঠক ছিলেন। এ ছাড়া নিজ উদ্যোগে শহরে আশুগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং মৃত্যু আগপর্যন্ত লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া আশুগঞ্জের প্রথম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক আশুগঞ্জ সংবাদ এর প্রকাশনা ও সম্পাদক ছিলেন।

পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আশুগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ব্যস্থতার জন্য নিজেই সমকাল পত্রিকা ছেড়ে দেন। কামাল হোসেনের হাত ধরে আশুগঞ্জের অনেকেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। তাছাড়াও রোটারী ক্লাব অব আশুগঞ্জের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। এছাড়া স্কাউটের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত নানা সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।