১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

কসবায় করোনায় আক্রান্ত গুজব তুলে এক ব্যক্তিকে মারধোর ॥ থানায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মনির হোসেন-(৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে গুজব তুলে তাকে বেদম মারধোর করেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা। এ সময় মনির হোসেন ও তার স্বজনদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মনির হোসেন তিনজনের নামউল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬জনের বিরুদ্ধে কসবায় থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার আসামীরা হলেন, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের মরহুম আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ ইকবাল মিয়া-(৪৫), তার ভাই মোঃ সারোয়ার আলম ও একই এলাকার তহিদ মিয়ার ছেলে মোঃ জয়নাল আবেদীনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬জন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের মরহুম আলেক মাষ্টারের ছেলে মোঃ মনির হোসেন-(৪৮) এর কাছ থেকে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর একই এলাকার মরহুম আবদুল মালেকের ছেলে মোঃ ইকবাল মিয়া ঢাকার উত্তরাতে ফোমের দোকানে অর্ধেক শেয়ার দেয়ার কথা বলে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়।

পরে ইকবাল মিয়া ঢাকায় ফোমের ব্যবসা দিয়ে নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে। মনির হোসেন শর্ত অনুয়ায়ী ইকবাল মিয়াকে ব্যবসা থেকে পাওয়া লভ্যাংশ দিতে বললে ইকবাল মিয়া মনির হোসেনকে বলেন সে নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করবে ও মনির হোসেন থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।

পরে ইকবাল মিয়া টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করলে এনিয়ে কুটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদিরের সভাপতিত্বে এলাকায় এক শালিস সভা অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে ইকবাল গত ঈদুল ফিতরের পর টাকা ফেরত দেয়ার কথা জানায়। ঈদুল ফিতরের পর মনির হোসেন ইকবাল মিয়ার কাছে পাওনা টাকা চাইলে ইকবাল জানায় আরো পরে টাকা ফেরত দিবেন।

পরে ইকবাল মিয়া ও তার সহযোগীরা এলাকায় গুজব রটিয়ে দেয় মনির হোসেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। গত ৮ জুন পুনরায় ইকবাল ও তার সহযোগীরা কুটি বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় গুজব রটিয়ে দেয় মনির হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে মনির হোসেন একই গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমান স্বপনকে অবহিত করেন। গত ৯ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে মনির হোসেন একই এলাকার মোঃ লিটন মিয়া, মেঃ নজরুল ইসলামকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে ইকবাল মিয়াও তার সহযোগীরা তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে মনির হোসেন ও তার সহযোগীদেরকে বেদম মারধোর করে রক্তাক্ত জখম করে তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌছে তাদেরকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই ইকবাল ও তার সহযোগীরা তাদেরকে যে কোন সময়ে খুন করে ফেরবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় আহত মোঃ মনির হোসেন গত ১১ জুন কসবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে সহকারি পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। প্রতিপক্ষও আরেকটি অভিযোগ দেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সায়েদুর রহমান স্বপন জানান, তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। মনিরের করোনা হয়েছে এমনকি সে মারা গেছে বলে এলাকায় রটানো হয়। এ ঘটনায় মনির তার চাচাতো ভাই ইকবালকে দায়ী করে। পরে মনির মারধরেরও শিকার হয়। তবে টাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।

পৃথক ঘটনায় ২ জন খুন