১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

নবীনগরে একদিনে ১১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

 

স্টাফ রিপোর্টার,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের এক পরিবারের ১০জনসহ ১১জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার একজন স্বাস্থ্য সহকারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। এদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।

সোমবার দুপুরে নবনীগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোশরাত ফারখান্দা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাফরপুর গ্রামের আক্রান্ত পরিবারের দুই সদস্য আগেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মাধ্যমেই পরিবারের বাকি সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ১জন স্বাস্থ্য সহকারীও আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর জেল সুপার ও ডেপুটি জেলারসহ কারাগারের ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে রোববার বিকেলে থেকে ওই ছয়জন নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও সতর্কতা হিসেবে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা চারজন কয়েদিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কোয়ারেন্টাইন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকেই দাফতরিক কাজ করবেন ওই কর্মকর্তারা।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা কারাগারে প্রায় সাড়ে ১৭শ হাজতি ও কয়েদি রয়েছেন। আক্রান্ত ওই চিকিৎসকই কারাগারের একমাত্র চিকিৎসক। সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল তিনি কারাগারে যান। তখন কারাগারের হাসপাতালে চারজন কয়েদি ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া জেল সুপারের কক্ষেও যান ওই চিকিৎসক। ওইদিন জেল সুপার ও ডেপুটি জেলার মোঃ রেজাউল করিমসহ ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসেন।

রোববার ওই চিকিৎসকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে জেল সুপার ও ডেপুটি জেলারসহ ছয়জন কারাগারের ভেতরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। সতর্কতা হিসেবে ছয়জনই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আক্রান্ত চিকিৎসক সরাসরি হাতে ধরে কোনো কয়েদিকে চিকিৎসা দেননি। তবে সতর্কতা হিসেবে ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা চারজন কয়েদিকে আমরা আলাদা করে ফেলেছি। আমাদের ডেপুটি জেলারকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন তিনি। সেজন্য আমরা ছয়জন কারাগার থেকে আলাদা হয়ে গেছি। আজকে থেকে আমরা কারাগারের অফিসে যাচ্ছি না। আইজি স্যার বলেছেন আমাদের ঘরে অবস্থান করার জন্য।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ একরাম উল্লাহ বলেন, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ৫৭ জন। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ জন। এখন ১৯ জন জেলা বক্ষব্যধি হাসপাতালসহ বিভিন্নস্থানে আইসোলেশনে আছেন। মারা গেছেন দুই জন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় ১৬৭৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফলাফল এসেছে ১২৭৭ জনের। ৫৭ জন বাদে বাকিদের
নমুনা সংগ্রহের ফলাফল নেগেটিভ আসে।