৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

ব্যবসায়ী হান্নান হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বাহার (৪৫) হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদন্ডে রায় দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন, নবীনগরের কণিকাড়া গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে মো. নুরু মিয়া, বাঙ্গুরা গ্রামের সবদের খানের ছেলে লোকমান খান, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার মকলিশপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. জিয়াউল হক ও একই উপজেলার কামারচর গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে ও মো. কাদির হোসেন। এদের মধ্যে জিয়াউল হক রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার অম্বরনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল হান্নান বাহার ঢাকার চকবাজারে কসমেটিক ও ইমিটেশনের ব্যবসা করতেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা বাহারের দোকান থেকে মালামাল কিনে নিয়ে যেতেন।

প্রতিবছর ঈদ শেষে পাইকারদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করে ঢাকায় ফেরত যেতেন তিনি। গত ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর তিনটার দিকে বাহার কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা এলাকায় পাইকার লোকমান খানের কাছে বকেয়া আদায় করতে যান। বাহারকে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে বাঙ্গরা বাজারে ডেকে নেন লোকমান।

মামলায় দ-প্রাপ্তরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, বাহার বাঙ্গরা বাজারে যাওয়ার পর লোকমান তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়ানোর নাম করে বাহারকে ইঞ্জিন নৌকায় তুলে নিয়ে যান। নৌকায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বাহারের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করে। আসামিরা ৪ আগস্ট থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাহারের হাত-পা বেঁধে তাকে নির্যাতন করে। কিছু টাকা আদায়েরর পর আরও টাকার জন্য বাহারকে হত্যার হুমকি দেয় আসামিরা।

৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় আসামিরা বাহারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর লঞ্চ ঘাটের বিপরীত দিকে তিতাস নদীতে ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে নদী থেকে বাহারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাহার হত্যাকা-ের ঘটনায় ৯ আগস্ট বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ছোট ভাই বেলাল হোসেন। হত্যার ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস.এম ইউসুফ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার কাছে মনে হয় রায়টি সঠিক হয়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।