২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

হাড়-কাপানো শীতে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফুটপাতের গরমের কাপড় বিক্রির ধূম

স্টাফ রিপোর্টার:

হাড়-কাপানো শীতে কাঁপছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়া। শীতের তীব্রতায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। গত তিনদিন ধরে সূর্য না উঠায় শ্রমজীবী মানুষ খুবই কষ্ট করছে। শৈত্য প্রবাহের কারনে মানুষ খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়না। তীব্র এই শীতে সব চেয়ে বেশী কষ্ট করছে শিশু ও বয়স্করা। অসহায়, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের কষ্টের শেষ নেই।

শীত বাড়ার সাথে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আসা কম্বল অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বে-সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকেও অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

তীব্র এই শীতে উচ্চবিত্তের মানুষ বিভিন্ন মার্কেট থেকে গরমের কাপড় কিনলেও মধ্যবিত্ত ও স্বলপ্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকছে ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী ও ভাসমান গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। শহরের প্রধান সড়ক টি.এ. রোডের ফুটপাতগুলোতে রিক্সাভ্যানের উপর বসেছে গরম কাপড়ের দোকান।

শহরের হাসপাতাল রোড, বঙ্গবন্ধু স্কয়ায়ের সামনে, পুরাতন কোর্ট রোড, মঠের গোড়া, ঘোড়াপট্টি ব্রীজের গোড়া ও ১২ ছাত্রনেতা স্মরনে নির্মিত স্মৃতিসৌধের সামনে, কুমারশীল মোড়, মসজিদ রোড, পুরাতন কাচারি, রেলওয়ে স্টেশনের সামনে রিকসা ভ্যানের উপর বসেছে গরমের কাপড়ের দোকান। এসব দোকানে গার্মেন্টেসের তৈরী বিভিন্ন বয়সী মানুষের পোষাক ও বিদেশ থেকে আনা পুরাতন কাপড় বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিদিন শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন এসে তাদের পছন্দসই কাপড়-চোপড় এসব দোকান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিদেশ থেকে আনা পুরাতন কাপড়ের চাহিদাই বেশী।

বিদেশী পুরাতন কাপড়ের মধ্যে উলের তৈরী জাম্পার, সোয়েটার, টুপি, মাফলার, লেদারের জ্যাকেট,ব্লেজার, মোটা কাপড়ের তৈরী জ্যাকেটসহ মহিলাদের বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক, বিদেশী কম্বল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে শীত পড়ার পর এসব পুরাতন কাপড়ও বেশী মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

শহরের বেশ কয়েকটি রাস্তায় ফুটপাত ঘুরে দেখা যায় গরমের কাপড় বিক্রির ধূম। মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা তাদের পছন্দসই কাপড় কিনছেন এইসব ফুটপাত থেকে।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা মামুন মিয়া জানান, শীত পড়ার পর তাদের ব্যবসা ভালো।তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষগুলোই তাদের মূল ক্রেতা। তিনি জানান, ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসলে পুলিশ বাঁধা দেয়। তবু পেটের দায়ে তারা ব্যবসা নিয়ে বসেন।

ফুটপাতের বিক্রেতা ইদ্রিস মিয়া জানান, তারা পুরাতন কাপড় ঢাকা থেকে কিনেন। তিনি জানান, ব্যবসা বর্তমানে ভালো।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে একটি পুরাতন সোয়াটার কেনা বাবুল মিয়া জানান, তিনি তার মেয়ের জন্য ২শত টাকায় একটি উলের সোয়েটার কিনেছেন।

ক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ৭শত টাকা দিয়ে একটি জ্যাকেট কিনেছেন।

পৌর এলাকার কাজীপাড়ার আরমান মিয়া জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভালো মানের কাপড় সস্তায় ফুটপাতেই পাওয়া যায়। তাই ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ভীড়।