১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু ময়নাতদন্তের জন্য দিয়ার লাশ উত্তোলন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় মৃত নওশিদ আহমেদ দিয়া (২৯) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ উত্তোলন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে তত্বাবধায়ক টালবাহানার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার বাদী ও মৃত নওশিদ আহমেদ দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু মিয়া জানান, গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের হয়। ওই দিন বিকেলে লাশ উত্তোলনের কথা ছিল। পরে তা শুক্রবার সকাল ১০টায় সময় নির্ধারন করা হয়। সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ শহরের শেরপুর কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন চিকিৎসক সংকটের কারন দেখিয়ে ময়নাতদন্তের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শওকত এর সাথে কথা বলে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা পর দুপুর দিকে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার এসআই নারায়ণ চন্দ্র দাস, এসআই শিরিন আক্তার, আইনজীবি মোঃ মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ বলেন, আদালতে নির্দেশ মরদেহ উত্তোলনের জন্য আমরা কবরস্থানে এসেছি। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি প্রেরণ করা হয়েছে। বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসক আজহারুর রহমান তুহিন, ডাঃ ইকরামুল রেজা ও ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন মৃত দিয়ার ময়নাতদন্ত করবেন বলে জানান তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন।

সদর হাসপাতালে তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, বৃহষ্পতিবার বিকেল হয়ে যাওয়ায় ওই দিন ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়নি। তবে গতকালের লাশ উত্তোলন নিয়ে সময়ক্ষেপনের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তােলন করা হয়।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়া ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নওশীন আহাম্মদ দিয়া গর্ভবতী অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। আগাম অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারীর করা হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে রিলিজ দিয়ে দেয়া হয়। ৪ নভেম্বর পুনরায় দিয়ার শরীর খারাপ হলে তাকে আবার ওই হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী, অরুনেশ্বর পাল অভি ও মোঃ শাহাদাত হোসেন রাসেল মৃত্যু হতে পারে জেনেও দিয়ার ভুল চিকিৎসা এবং ভুল ইনজেকশন ও ঔষধ প্রয়োগ করেন। দিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার মুখে অক্সিজেন দিয়ে দুপুরে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে।

বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌছলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, কয়েক ঘন্টা পূর্বেই তার মৃত্য হয়েছে। মৃত দিয়ার বাবা শিহাব আহমেদ গেন্দু মিয়া গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিরা হলেন খ্রীস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরী ও তার ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল এবং মো. শাহাদাৎ হোসেন রাসেল।