২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

সরাইলে বিকেলে পুলিশের সাথে শপথ রাতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা!

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সোমবার বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে দাঙ্গা বিরোধী শপথ নেয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাবাজরা। হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে। গত সোমবার রাতে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে আসামী পক্ষটি হামলা ভাঙচুরের ‘নাটক’ সাজাতে পারে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর রাজাপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোঃ আবদুল কাদিরের ছেলে মোঃ আবদুল্লাহ মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ গত ২৫ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজাপুর গ্রামের চকবাজারে সাফিল মিয়ার সাথে তার প্রতিবেশি মনির মিয়ার বাগবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে সাফিল মিয়ার বাড়িতে হামলা হয়। এতে আহত হন আবদুল্লাহ মিয়া। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর হাসপাতালে ও পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আব্দুল্লাহ মিয়ার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।
এ অবস্থায় গত সোমবার বিকেলে ওই গ্রামে দাঙ্গা বিরোধী সমাবেশের ডাক দেয় সরাইল থানা পুলিশ। এতে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সবাইকে হাত উঁচিয়ে দাঙ্গায় না জড়ানোর শপথ করানো হয়।

‘হে সৃষ্টিকর্তা আমরা আপনাকে সাক্ষী রেখে শপথ করেতেছি যে, আমরা আজ থেকে কোনো মারামারি, দাঙ্গাহাঙ্গামায় লিপ্ত হবো না। নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ হলে নিজেরা মীমাংসা করে নিবো। না হলে প্রশাসনের শরনাপন্ন হবো। আজ থেকে কোনো দিন অস্ত্র হাতে তুলে নিবো না। হে সৃষ্টিকর্তা আপনি আমার শপথ কবুল করুন। আমিন’। এই বলে শপথ নেন গ্রামবাসী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গ্রামের লোকজন কিছু দেশীয় অস্ত্রও জমা দেন। সমাবেশ শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আসামী পক্ষের পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে হামলা, লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সোমবার সমাবেশ শেষ করার পরই কয়েকটি বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন টিটু বলেন, ‘ওই এলাকায় আমরা সমাবেশ করেছি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশ ওই গ্রামে যাওয়া-আসা করছে। তবে হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা সাজানো হতে পারে।