২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

বিজয়নগরে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক

স্টাফ রির্পোটার :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মহিলাসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আজ (২৫) অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে দিকে উপজেলার চম্পকনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসা নেয়।

এলাকাবাসী, পুলিশ ও আহতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের সনু মিয়ার গোষ্ঠির মরহুম মোবারক মৃধার লোকজনের সাথে একটি জায়গা নিয়ে একই গ্রামের দোসা মিয়ার গোষ্ঠির সাবেক ইউপি সদস্য সামসু মিয়ার লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় এক বছর আগে ওই সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে চম্পকনগর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার চারটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে গ্রামের ফতেহপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় দোসা গোষ্ঠির সামসু মিয়াকে ৭ শতক জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে সামসু মিয়া রাজী হয়। গত কয়েকদিন ধরে সামসু মিয়া সনু মিয়ার গোষ্ঠির মৃত মোবারক মৃধার জায়গা দখল করার পরিকল্পনা করছিল।

শুক্রবার সকাল আটটার দিকে সামসু মিয়া তার লোকজনকে নিয়ে মোবারক মৃধার জায়গা দখল করতে যায় ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে সনু মিয়ার গোষ্ঠির লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরে সনু মিয়ার গোষ্ঠির লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় উভয়পক্ষের নারী পুরুষসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যাপক লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষে আহত হয়ে সনু মিয়ার গোষ্ঠির লোকজন দুপুরে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতলে গেলে সামসু মিয়ার লোকজন পুনরায় হাসপাতালের বাইরে সনু মিয়ার গোষ্ঠির আল আমিনকে মারধর করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

আহতদের মধ্যে আজম আলী (৩৫), ফারুক মিয়া (৩৫), কামাল মিয়া (৪০), নাজমুল হাসান (৯), রাজ্জাক মিয়া (৩৬), জীবন দাস (৩৮), উত্তম দাস (২৪), আনোয়ার হোসেন (৪০), আরিফ মিয়া (৪০), জামাল মিয়া (৫৫), শরীফ দস্তগীর (৩০), শরীফ আহমেদ (৫০) আলামিন (৪০), ইসমাইল মিয়া (২২), রফিক মিয়া (২৬), ইমন মিয়া (১৬), আলী হোসেন (৩৫), শরীফ মিয়া (২৮), বিল্লাল হোসেন (৩০), স্বপ্নীল (২০), বাবুল মিয়া (২৫), জুয়েল মিয়া (২০), মন্নাফ মিয়া (৬০), রফিক মিয়া (২৩), সাব্বির মিয়া (২২), দারু মিয়া (৫০), জিরু মিয়া (৩৮), ইমাম হাসান (২৮), মমতাজ বেগম (৩৫), সাহানা বেগম (৩০), পাবেল মিয়া (২৮), আইয়ুব খান (৫০) শাকিল খান (২২) শামীম খান (২২) বিল্লাল চৌধুরী (৪৫), ফিরোজ মিয়া (৭২), রাকিব মিয়া (২৫), আলী হোসেন (৩৫), সাব্বির মিয়া (২১), মীর বেলাল উদ্দিন (৫১), সেলিম মিয়া (৫০), আব্দুল সাত্তার (৫৫) সহ ৪১জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেন।

উপজেলার পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান রতন বলেন, একটি জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দোসা মিয়ার গোষ্ঠি ও সনু মিয়ার গোষ্ঠির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে দোসা মিয়া গোষ্ঠির লোকজন হাসপাতালের বাইরে সুনর গোষ্ঠির আলামিনকে মারধর করে।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম বলেন, উভয়পক্ষের দুই থেকে তিন হাজার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বেশি হতো।