১৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

সরকারি চাকুরী করেও তিনি আওয়ামীলীগের নেতা 

 এনবি প্রধিনিধি:
সরকারি চাকুরী করেও হাবিবুল্লাহ সরকার এখন আওয়ামীলীগের নেতা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চর-ইসলামপুর ইউনিয়নের জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকরি শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চর-ইসলামপুর ইউনিয়নের চর-ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ সরকার জামালপুর রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নাম জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সকল কর্মসূচীতে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজয়নগর উপজেলার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন সরকারি চাকুরী করেও কিভাবে হাবিবুল্লাহ সরকার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আছেন বিষয়টি বোধগম্য নয়।

তারা বলেন, সরকারি বিধিমালায় বলা আছে, সরকারি চাকুরী করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে পারবেন না। সম্প্রতি চর-ইসলামপুর গ্রামের রাস্তায় বেশ কয়েকটি তোরন নির্মাণ করেছেন ওই শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতা। সেখানে নিজের পদ উল্লেখ করে ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার টানিয়েছেন তিনি।

চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দানা মিয়া বলেন, গ্রামের লোক বলে তাকে আমরা কমিটিতে রেখেছি। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরকারি কোনো চাকুরীজীবি রাজনৈতিক দলের কোন পদপদবিতে থাকতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে রেখেছি। তিনি থাকতে রাজী ছিলেন না।

এ ব্যাপারে চর-ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, আসলে রাজনীতি এমনিতেই করি। নির্বাচনের আগে লোকজন আমাকে এই পদে রাখার দাবি তোলে। সরকারি চাকুরীজীবি হয়ে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন কি না, জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক আওয়ামী লীগের কোনো পদে থাকতে পারে না। আর চর-ইলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের কোনো পদে থাকতে পারবে না। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।