,

নবীনগরে শিশু ইমন হত্যা ॥ ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার

এনবি প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিশু ইমন-(১৩) হত্যাকান্ডের ৫দিন মামলার একমাত্র আসামী রফিকুল ইসলাম-(৩০) কে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সানারপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা।
গত বুধবার রাত আড়াইটায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম নিহত ইমনের ভগ্নিপতি এবং ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মোঃ সমির উদ্দিনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক প্রেসব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১৪- এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ এখতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে খুনি রফিকুল ইসলামকে হাজির করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১৪-এর অধিনায়ক জানান, গত ২ মার্চ নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণ বাড়ি এলাকার একটি ধানি জমি থেকে শিশু ইমনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

হয়েছে। পরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ইমনের ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রফিকুলকে আসামী করে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পরে র‌্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এবং সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত আভিযানিক দল উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুনি রফিকের অবস্থান সনাক্ত করে এবং গত বুধবার গভীর রাত আড়াইটায় নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সানারপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেসব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১৪- এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ এখতেখার উদ্দিন গ্রেপ্তারকৃত রফিকের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রফিক জানায়, ইমনের বড় বোন মনিরা বেগমের সাথে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মনিরার সাথে তার দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে সে মনিরাকে মারধোর করত। এ কারনে গত ৩/৪ মাস আগে মনিরা তার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। এর জের ধরে স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতেই সে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শ্যালক শিশু ইমনকে হত্যা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে।

র‌্যাব জানায় গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম একজন মাদকসেবী। এ ছাড়াও সে চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই করতো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে।