২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং

দুই পুলিশ কর্মকর্তার হয়রানির শিকার কসবা উপজেলার যুবলীগ নেতা 

এনবি নিউজঃ খালাতো ভাইকে সহযোগিতা করতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তার রোষানালে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী কাজী মোবারক হোসেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন ও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ নেতা কাজী মোবারক হোসেন দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের কাজী মুকসুদ আলীর ছেলে কাজী মোবারক হোসেন বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী। পাশ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জামতলী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে গোলাম ছামদানী প্রকাশ রাসেল-(২৮) তার আপন খালাতো ভাই।
২০১৬ সালে রাসেল স্টুডেন্ট ভিসায় মালেশিয়ায় যান। সেখানে একই ভবনে থাকার সুবাদে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চারিপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের সাথে রাসেলের পরিচয় হয়। ২০১৭ সালের শেষে দিকে বিদেশে লোক নেওয়ার কথা বলে রাসেল আবুল বাশারের কাছ থেকে এক লাখ ৮০হাজার টাকা গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি রাসেল দেশে ফিরে আসেন।
এদিকে রাসেলের কাছে ৭ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন আবুল বাশারের স্ত্রী আছমা আক্তার।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসআই গোবিন্দের নেতৃত্বে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খালাতো ভাই রাসেলের পক্ষে উপস্থিত হন কসবা উপজেলা যুবলীগ নেতা কাজী মোবারক হোসেন। সভায় তিন মাসের মধ্যে রাসেল আছমা আক্তারকে ১ লাখ ৮০হাজার টাকা ফিরিয়ে দিবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই গোবিন্দ ১০০টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল অলিখিত স্টাম্পে গোলাম ছামদানী প্রকাশ রাসেল, কাজী মোবারক হোসেন ও উজ্জল ভূঁইয়ার স্বাক্ষর নেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী মোবারক হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি জানতে পারেন এসআই গোবিন্দের কাছ থেকে তাদের স্বাক্ষর করা ১০০টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল অলিখিত স্টাম্প নিয়ে অভিযোগকারী আছমা আক্তার তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম ২নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই নুরুউদ্দীন তালুকদারের সাথে দেখা করেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন ইউনিট ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, গোলাম ছামদানী রাসেল ও কাজী মোবারক ডিবি অফিসে গিয়ে এসআই নুরুউদ্দীন তালুকদারকে ঘটনা খুলে বলেন। এসময় নুরুউদ্দীন এক লাখ ২০হাজার দিলে বাদী আছামার সাথে মামলাটি শেষ করে দিবে বলে হাবিবুর রহমানকে জানান। ঘটনার দুইদিন পর ডিবির এসআই নুরুউদ্দীন তালুকদারকে এক লাখ ১০হাজার টাকা দেন তারা। এ ঘটনার দেড়মাস পর ডিবির এসআই নুরুউদ্দীন রাসেলকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি অলিখিত চেক ও ২০হাজার টাকা রেখে ছেড়ে দেন।
মোবারক অভিযোগ করে বলেন, এভাবে হয়রানি করার বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই নুরুউদ্দীন তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এঘটনার ১০/১২ দিন পর কুমিল্লার কতোয়ালি থানা থেকে তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি প্রস্তুতির মামলার কাগজ কসবা থানা পাঠান এস আই নুরুউদ্দীন। পুনরায় ডিবির এই এসআইয়ের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আরো মামলা দিবেন বলে হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম ছামদানী রাসেলের পিতা মিজানুর রহমান বলেন, তার ছেলে বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে আসে। আর আদালতে মামলা হয়েছে ২০১৭ সালে। মামলায় তার ছেলে, তাকে, আত্মীয় উজ্জল মিয়া ও মোবারক হোসেনকে আসামী করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার বাদী আছমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, থানায় সকল স্বাক্ষীদের সামনে তাঁরা ১০লাখ টাকায় দেবেন বলে রাজী হয়েছেন। পরে থানায় তিনটি স্ট্যাম্পে তাঁরা স্বাক্ষর দিয়েছেন। টাকা না দেওয়ায় মামলা করেছি। তারা আমাদের লোকজনের চারটি পাসপোর্ট নিয়ে দুটি ফেরত দিয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই নুরুউদ্দীন তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকল স্বাক্ষী প্রমাণ ও দলিলে বাদী ১৬ লাখ টাকা পাবেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গোলাম ছামদানী রাসেল টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। গত মাসে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। উভয়পক্ষকে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে বলেছি। তিনি বলেন, একাধিকবার ডাকা হলেও মোবারক আসেননি। ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কিছু না। একটা মামলায় তিনি জড়িত কি না বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কসবা থানায় ইনকোয়ারি স্লিপ পাঠিয়েছি।